সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১০ ব্যাংক টানা দুই বছর লভ্যাংশ ঘোষণা না করায় ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন করা হয়েছে। গতকাল থেকেই এ ক্যাটাগরি পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে একই কারণে আরো তিন ব্যাংকের শেয়ার জেড ক্যাটাগরিতে অবনমন করা হয়েছিল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জেড ক্যাটাগরিতে অবনমনকৃত ব্যাংকগুলো হলো এবি ব্যাংক পিএলসি, আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, এনআরবি ব্যাংক পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ও এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি। এর মধ্যে ছয়টি ব্যাংকই ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ছিল, বাকি চারটি ব্যাংক ছিল ‘বি’ ক্যাটাগরিতে। এর আগে গত সপ্তাহে টানা দুই বছর লভ্যাংশ ঘোষণা না করার কারণে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ‘এ’ থেকে ‘জেড’, এসবিএসি ব্যাংক পিএলসিকে ‘বি’ থেকে ‘জেড’ এবং স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসিকে ‘বি’ থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন করা হয়েছিল।
বিএসইসির নির্দেশনা অনুসারে, ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার কেনার জন্য মার্জিন ঋণ সুবিধা পাওয়া যায় না। তাছাড়া ‘জেড’ ক্যাটাগরির শেয়ার কেনার পর তিনদিনের আগে তা বিক্রি করা যায় না। যেখানে ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারের ক্ষেত্রে এ সময়সীমা দুইদিন নির্ধারিত রয়েছে।
এবি ব্যাংকের পর্ষদ সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি। এর আগের ২০২৪ হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। ২০২৫ হিসাব বছরে এবি ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪৩ টাকা ৪২ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছিল ২১ টাকা ২৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ২৪ পয়সায়।
আইএফআইসি ব্যাংকের পর্ষদ সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি। এর আগের ২০২৪ হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। ২০২৫ হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৩ টাকা ৩২ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছিল ৬৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৯৬ পয়সায়।
ওয়ান ব্যাংকের পর্ষদ সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি। এর আগের ২০২৪ হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। ২০২৫ হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৮ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ১ টাকা ২৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২২ টাকা ৪৬ পয়সায়।
প্রিমিয়ার ব্যাংকের পর্ষদ সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি। এর আগের ২০২৪ হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। ২০২৫ হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৮ টাকা ৫ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ৫৯ পয়সায়।
রূপালী ব্যাংকের পর্ষদ সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি। এর আগের ২০২৪ হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। ২০২৫ হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১৪ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ২ পয়সায়।
এনআরবি ব্যাংকের পর্ষদ সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি। এর আগের ২০২৪ হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। ২০২৫ হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২০ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৮৯ পয়সায়।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পর্ষদ সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি। এর আগের ২০২৪ হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। ২০২৫ হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৫৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৩৫ পয়সায়।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের পর্ষদ সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি। এর আগের ২০২৪ হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। ২০২৫ হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১৫ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৫ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৭১ পয়সায়।
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি। এর আগের ২০২৪ হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। ২০২৫ হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৭৪ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৬৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ১৬ পয়সায়।
এনআরবিসি ব্যাংকের পর্ষদ সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি। এর আগের ২০২৪ হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। ২০২৫ হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১৬ পয়সা, যেখানে আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সায়।